Skip to content

Petition

Human rights Dhaka

উন্নত সড়কে কেন লক্কড়ঝক্কড় বাস ???

0 signaturesof 100,000

  • Petition to

    Obaidul Quader -ওবায়দুল কাদের

  • Started by ·

    Agroni

Why this matters

প্রতিবছর ঈদ এলেই ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় গাড়ির দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য শহর ও শহরের আশপাশের মানুষের চাপে দেখা দেয় যানবাহনের চরম সংকট। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু ও লোভী পরিবহন ব্যবসায়ী ভালোমন্দ বিচার না করে পুরোনো প্রায় অকেজো গাড়ির বডিতে রংচং দিয়ে নতুন করে সাজায় যাত্রী আকর্ষণের জন্য।

এ রকম অনেক দৃশ্য এখন দেখা যাচ্ছে ঢাকার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও অলিগলিতে। ঢাকার ওপারে জিনজিরা ঘাটে লঞ্চ-স্টিমারগুলোর কারিগরেরাও ব্যস্ত একই কাজে। ঈদ সামনে রেখে ফিটনেসবিহীন এসব লক্কড়ঝক্কড় যানবাহন মেরামতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ওয়ার্কশপের কারিগর ও রংমিস্ত্রিরা। এসব পুরোনো গাড়িতে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, তেমনি সড়কে নামানোর পর রাস্তায় কোথাও বিকল হয়ে প্রচণ্ড ট্র্যাফিক জ্যামের সৃষ্টি করে এবং ঘরমুখী মানুষকে মহাসড়কে ভোগান্তিতে ফেলে।

ঈদে যাতে সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি না চলতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন থেকে প্রতিবছরই ট্রাফিক পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া থাকে। ক্ষেত্রবিশেষ আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। তারপরও এ অবস্থার কোনো পরিবর্তন হতে দেখা যায় না।

ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনের সঙ্গে বর্তমান সময়ে ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুক্ত হয়েছে অনিয়ন্ত্রিত হোন্ডা ও থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক)। ঈদে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এসব মোটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলার মহাসড়কে দ্রুত উঠে যাচ্ছে। সোজা, আড়াআড়ি ও ফাঁকফোকর দিয়ে দ্রুতগতিতে অনেক ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহনে ব্যস্ত থাকছে।

এ কারণে প্রতিনিয়ত ঘটেছে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ী গত কয়েক বছরে পবিত্র ঈদুল ফিতরে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র নিম্নরূপ:

২০২৩ সালে ঈদযাত্রায় ২৫ লাখ মোটরসাইকেল ও ৪০ লাখ ইজিবাইক ব্যবহৃত হয়। তখন ঈদের আগে ও পরে ১৫ দিনে ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত ও ৮৪৪ জন আহত হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে ৪০২টি দুর্ঘটনায় ৪৪৩ জন নিহত ও ৮৬৮ জন আহত হয়েছেন। ২০২২ সালে ঈদযাত্রায় ৩৭২টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৪১৬ জন, আহত হন ৮৪৪ জন।

এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪৫ জন। ২০২১ সালে ৩১৮ জন এবং ২০২০ সালে ১৪৯ জন মারা গেছেন। ২০১৯ সালে সারা দেশে ২৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন মারা গেছেন এবং ৮৪৯ জন আহত হয়েছেন। ২০১৮ সালে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩৩৯ জন। তখন দেশজুড়ে ২৭৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মানুষের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৬৫।

২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৭৪ জন। ২০১৬ সালে ১২১টি সড়ক দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে ১৮৬ জন মানুষ নিহত হন এবং আহত হয়েছেন আরও ৭৪৬ জন। ২০১৫ সালে সারা দেশে ১০৯টি দুর্ঘটনায় ১২২ জন মানুষ মারা যান। দেখা যাচ্ছে, বর্তমান সময়ে মোট দুর্ঘটনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘটে মোটরসাইকেলে।

২০০৩ সালে ১৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত ও ১২০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ, নিহত মানুষের ৫১ শতাংশ ও আহত মানুষের ২১ দশমিক ৩ শতাংশ।

গত এক দশকে অভ্যন্তরীণ সড়ক ও মহাসড়কের অনেক উন্নতি হয়েছে। দুই লেনের মহাসড়ক চার লেনে পরিণত হয়েছে অনেকগুলো। ভবিষ্যতে চার লেনগুলো আট লেনে পরিণত হবে। ব্যস্ত শহরগুলো হয়েছে অনেক ডিভাইডার, আন্ডারপাস, বাইপাস, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে ইত্যাদি।  

কোথাও কোথাও সড়কের লেন এবং তার ওপর নির্মিত ফ্লাইওভারের দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য ইউরোপ-আমেরিকাকেও হার মানিয়েছে। কিন্তু ওই দৃষ্টিনন্দন ফ্লাইওভারের আগে ও পরে দেখা যায় দুমড়ানো-মোচড়ানো গাড়ি ও লাশ।

অর্থাৎ বাংলাদেশ একটি উন্নত ও স্মার্ট সড়ক যোগাযোগের দিকে দ্রুত এগোলেও কেন যেন যাত্রী ও পরিবহনমালিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মন মানসিকতা আগের মতোই রয়ে গেছে। যেখানে–সেখানে পার্কিং, উল্টো পথে চলাচল এবং লক্কড়ঝক্কড় গাড়ির বহর যেন কিছুতেই কমছে না, বরং বাড়ছে; সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা।

২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরির যে রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে, তাতে স্মার্ট সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরি। অধিকাংশ উন্নত দেশে যাত্রী পরিবহনে রেল যোগাযোগকে বেছে নেয়।

কারণ রেলে ভ্রমণ করা নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা যেমন একটি অতি স্বাভাবিক ব্যাপার, তেমনি ঘূর্ণিঝড় এবং প্রবল স্রোতের কারণে নৌপরিবহনেও ঘটে একই ঘটনা। দেশের প্রতিটি ছোট-বড় শহরকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পারলে দুর্ঘটনা অনেকটা কমে আসবে।

উপরন্তু বিস্তৃত রেল যোগাযোগ কার্যকর হলে সড়কপথে লক্কড়ঝক্কড় ও ব্যক্তিগত গাড়ি, এমনকি দূরপাল্লার গাড়ির বহরও অনেকটা কমে আসবে।

ফলে যানজট এমনিতেই কমে আসবে, দুর্ঘটনাও কমে আসবে শূন্যের কোঠায়।

প্রতিবছরই মুসলমানদের বড় দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে এ দেশের লাখ লাখ মানুষ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে নিজেদের শিকড়ে ফিরে যান।

তবে আনন্দের এই যাত্রা সব সময়ই সুখকর হয় না; অনেক সময় পরিণত হয় বিষাদে। যাত্রাপথে অথবা ঈদ কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়ে অনেকেই লাশ হয়ে ফেরেন নিজেদের পরিবারের কাছে। সাধারণত স্বল্প আয়ের দিনমজুর এবং পোশাককর্মীরা লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন গাড়িতে চড়েন।

যেহেতু তাঁদের ছুটি ও আয় কম, তাই যতই সমস্যা হোক কিংবা থাকুক না কেন, এই পথ ছাড়া তাঁদের আর বিকল্প কোনো চিন্তা করার সুযোগ থাকে না। অথচ দেশ গঠনে দিনমজুর ও পোশাককর্মীদের অবদান কম নয়।

তাই এ ক্ষেত্রে পরিবহনমালিক ও সরকার ঈদ মৌসুমে তাঁদের জন্য স্বল্প ভাড়ায় নিরাপদ পরিবহনের ব্যবস্থা করতে পারে। গত বছর এবং এই বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেশ আগেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই ইতিমধ্যে বাড়িতে পৌঁছে গেছেন।

ফলে এবার যানজট কম হবে এবং দুর্ঘটনাও কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির দৌরাত্ম্য কমাতে হবে। প্রয়োজনে এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আইনের কাছে সোপর্দ করতে হবে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় যাত্রী, পরিবহনমালিক ও জনসাধারণের সচেতনতাই পারে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে। যত্রতত্র পার্কিং এবং টিকিট কাউন্টার বসিয়ে যাত্রী ওঠানামার চর্চা বন্ধ করতে হবে। বাসস্ট্যান্ডের বাইরে পাড়ামহল্লায় গাড়ির কাউন্টার তৈরি হওয়ায় একদিকে যেমন নতুন কিছু উঠতি বয়সী কিশোর গ্যাংয়ের চাঁদাবাজি ও আড্ডাবাজির ব্যবস্থা হচ্ছে, অন্যদিকে মহল্লার আবাসিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

বিষয়গুলো প্রশাসনের নজরে আনা জরুরি। অতিরিক্ত বোঝাই লঞ্চ ও লক্কড়ঝক্কড় গাড়িতে উঠবেন না—এ ধরনের প্রচারণা বিভিন্ন মিডিয়ায় বারবার চালানো যেতে পারে।

লঞ্চঘাট ও বাসস্ট্যান্ডগুলোয় সচেতনতামূলক বার্তাসংবলিত লিফলেট বিতরণ করা যেতে পারে। যাত্রীসাধারণও সময় ও খরচ বাঁচাতে গিয়ে লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনে চলে জীবনের সর্বনাশ ডেকে আনবেন না।

নিরাপদ পরিবহন বেছে নিন, স্মার্ট যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে নিজেকে স্মার্ট যাত্রী হিসেবে তৈরি করুন, দুর্ঘটনা রোধে ভূমিকা রাখুন।


Recent supporters

No signatures yet. Be the first to sign.

Sign this petition

Add a petition

Start with the change you want. You'll add the details next.

Category

Takes about five minutes. Your draft saves as you go.

Share this petition

উন্নত সড়কে কেন লক্কড়ঝক্কড় বাস ???

Sign in to AmarAbedon

Use the email or username and password for your AmarAbedon account.

Forgot your password?

New to AmarAbedon? Create an account

By continuing you agree to our privacy and community guidelines.